ফ্লোরিডায় নিহত শিক্ষার্থী লিমন, জামালপুরের গ্রামে শোকের ছায়া, সারাদেশ, আমেরিকায় নিহত বাংলাদেশী শিক্ষার্থী, যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বাংলাদেশী শিক্ষার্থী, বিদেশে উচ্চ শিক্ষা,
নিহত জামিল আহমেদ লিমন।   ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই তার গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে গভীর শোক। জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের লালডোবা এলাকায় এখন শুধু কান্না আর শোকের পরিবেশ।

লিমনের পরিবার বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করলেও গ্রামের বাড়িতে রয়েছেন তার চাচা-চাচীসহ স্বজনরা। প্রিয়জনের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে তারা বাকরুদ্ধ। ছোটবেলায় গাজীপুরের মাওনা এলাকায় বেড়ে ওঠা লিমন সেখানেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৬ এপ্রিল থেকে লিমন ও তার বন্ধু নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ ছিলেন। সেই উদ্বেগের মাঝেই শুক্রবার রাতে আসে মৃত্যুর মর্মান্তিক খবর, যা পরিবারকে ভেঙে দিয়েছে।

লিমনের চাচা জিয়াউল ইসলাম জানান, ১৯৯৪ সালে তার বাবা পরিবার নিয়ে ঢাকায় চলে যান। এরপর থেকে তারা সেখানেই থাকতেন, তবে গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। শিক্ষাজীবনে মেধাবী লিমন গাজীপুরের মাওনা মডেল হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ থেকে এইচএসসি শেষ করেন। পরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। ২০২৪ সালে তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হন।

লিমনের ফুফু আকলিমা আক্তার বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে শুধু নিখোঁজের খবর পাচ্ছিলাম। হঠাৎ করেই মৃত্যুর খবর এল সেটা মানতে পারছি না। আমরা চাই, দ্রুত তার মরদেহ দেশে আনা হোক এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হোক।’

জানা গেছে, লিমন সেখানে ভূগোল, পরিবেশ ও নীতি বিভাগে পিএইচডি করছিলেন। তার বন্ধু নাহিদা কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর শুক্রবার সকালে হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড ব্রিজের কাছ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে যাওয়া এক তরুণের এমন পরিণতি স্বজনদের পাশাপাশি পুরো এলাকাতেই শোকের ছায়া ফেলেছে। এখন সবার একটাই দাবি ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং দোষীদের বিচার।