একতারা-ডুগডুগিতে ফিরল বাংলার চিরচেনা রূপ
গত ১৩ এপ্রিল রাতে প্রায় ১৫টি দলের মাধ্যমে ট্রাকভর্তি করে প্রায় ৬০ হাজার একতারা ও ডুগডুগি ঢাকায় আনা হয়।   ছবি: আরটিএনএন

বাংলা নববর্ষের আমেজে এবারও রঙিন হয়ে উঠে রাজধানী ঢাকা। তবে এবারের পয়লা বৈশাখে যুক্ত হয়েছে ভিন্ন মাত্রা—একতারা ও ডুগডুগির সুরে যেন আবারও জীবন্ত হয়ে উঠে আবহমান বাংলার চিরচেনা সংস্কৃতি।

রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগ ও জাতীয় জাদুঘর সংলগ্ন সড়কে ঘুরলেই চোখে পড়ে একতারা ও ডুগডুগির সারি। ছোট-বড় নানা রঙ ও আকারের এই লোকবাদ্যযন্ত্র হাতে নিয়ে ঘুরেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ কিনেন শখে, কেউবা নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব বাদ্যযন্ত্রের বেশিরভাগই এসেছে কুষ্টিয়া থেকে। গত ১৩ এপ্রিল রাতে প্রায় ১৫টি দলের মাধ্যমে ট্রাকভর্তি করে প্রায় ৬০ হাজার একতারা ও ডুগডুগি ঢাকায় আনা হয়।

একতারা বিক্রেতা খাইরুল হোসেন সেতু জানান, তিনি কুষ্টিয়ায় লালন শাহের মাজার এলাকায় নিয়মিত ব্যবসা করেন এবং প্রতিবছরই পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকায় আসেন। তিনি বলেন, “এবার শাহবাগ ও জাদুঘরের সামনে দুইটি পসরা ছিল। শুধু আজই প্রায় ৬০০টি একতারা বিক্রি করেছি।”

তার সহকর্মী আব্দুস সালাম জানান, প্রতি বছরই ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের প্রতি আগ্রহ লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে।

বাজারে একতারা ও ডুগডুগির বিভিন্ন ধরন দেখা গেছে—কোথাও নারিকেলের খোল দিয়ে তৈরি, আবার কোথাও কাঠের তৈরি। দামও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। ছোট একতারা ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় এবং বড় একতারা বা ডুগডুগি ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা জানান, আনা প্রায় ৬০ হাজার বাদ্যযন্ত্রের মধ্যে অন্তত ৫০ হাজারই একদিনে বিক্রি হয়ে যাবে বলে তারা আশাবাদী।

একসময় গ্রামবাংলার পরিচিত এই বাদ্যযন্ত্রগুলো আধুনিকতার চাপে অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছিল। তবে বৈশাখের এই আয়োজন প্রমাণ করেছে, সুযোগ পেলেই ঐতিহ্য আবারও ফিরে আসে।

কুষ্টিয়ার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উদ্যোগে ঢাকার রাজপথে আবারও বেজে উঠেছে একতারা-ডুগডুগির সুর—যা যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে বাঙালির সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের শেকড়কে।