বাস টার্মিনাল, ঈদুল ফিতর
বাস কাউন্টারগুলোতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে যাত্রীদের।   ছবি: আরটিএনএন

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ঢাকা শহর ছাড়ছে লক্ষ লক্ষ মানুষ। এতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক, বাস টার্মিনালে যাত্রী চাপ চরমে পৌঁছেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ, সময়মতো গাড়ি না ফিরায় এবং না ছাড়ায় তারা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

বুধবার (১৮ মার্চ) সরেজমিনে ঢাকা শহরের বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

শহরের কিছু ছোট বাসগুলোও ঈদ যাত্রী নিয়ে জেলা শহরে যাওয়ায় সাধারণ ভাড়া থেকে দ্বিগুণ-তিনগুণ বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পল্টন থেকে বাবুবাজার ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তায় সকাল থেকেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। ফলে ঘরের পথে যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে আছেন।

বাস কাউন্টারগুলোতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের। ব্যাগ ও মালপত্র নিয়ে কাউন্টারের সামনে বসে থাকা নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে দেখা যাচ্ছে। গুলিস্তানে অপেক্ষায় থাকা আরিফ হোসেন অভিযোগ করেন, ‘সাড়ে তিনশ টাকার ভাড়া ৭০০ টাকা দিয়ে যেতে হচ্ছে, তাও গাড়ি পাচ্ছি না। কোন নিয়ম-কানুন নেই, ডিসিপ্লিন নেই।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যাত্রী জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠান বিআরটিসি’র প্রতি আস্থা থাকলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভয়াবহ অনিয়ম। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ ও যানজটের কারণে সময়সূচি ঠিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

যাত্রাবাড়ীর এক কাউন্টার ম্যানেজার বলেন, ‘ঈদের আগে যাত্রীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। কিন্তু সড়কে যানজট থাকায় গাড়ি সময়মতো ঢাকায় ফিরতে পারছে না। ফলে পরবর্তী ট্রিপ বিলম্বিত হচ্ছে।’

গোল্ডেন লাইন পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা জানান, ‘গাড়ি ছাড়ার চেষ্টা করি, কিন্তু রাস্তায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা লাগে। পুরো শিডিউল এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।’

রাইদা পরিবহনের চালক আব্দুল মালেক বলেন, ‘রাস্তা ফাঁকা না থাকলে আমরা কিছুই করতে পারি না। যাত্রীরা আমাদের ওপর রাগ করেন, কিন্তু যানজট আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।’

এদিকে সড়ক, রেল ও নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম দাবি করেছেন, সার্বিকভাবে ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক চলছে এবং সব বাস কাউন্টার থেকে নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ভোগান্তি বা অভিযোগ পাওয়া যায়নি এবং রাস্তায় যানজটও নেই।