প্রধানমন্ত্রী, তারেক রহমান, ফ্যামিলি কার্ড
টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান।   ছবি: আরটিএনএন

দেশের নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে এই কার্ড চালু করা হলো। প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারায় আজ তাঁর জন্য ব্যক্তিগতভাবে একটি আবেগের দিন, সরকার ও দল হিসেবে বিএনপির জন্যও এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা ১১টা ১৮ মিনিটে রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পরিকল্পনা বিএনপি বহু বছর ধরে করছিল। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল এবং নির্বাচিত হওয়ার মাত্র এক মাসের কম সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। উদ্বোধনের সময় তিনি বলেন, আজ একটি স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক দিন। 

বর্তমানে কর্মসূচি দেশের ১৪টি অঞ্চলে শুরু হয়েছে, এবং ধাপে ধাপে সকল এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপের বাটন চেপে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন। এরপর তিনি কয়েকজন নারীর হাতে কার্ড তুলে দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন।

কার্ড পাওয়া নারীদের একজন রাশেদা। তিনি জানান, তাঁর অ্যাকাউন্টে ভাতা পৌঁছে গেছে। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগী পরিবারগুলো মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা পাবেন। ভাতা যাবে মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে। আপাতত ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে নির্বাচিত করা হয়েছে এবং পরীক্ষামূলক পর্যায়ে চার মাসের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

ভাতা প্রদানের শর্ত অনুযায়ী, নির্বাচিত নারী পরিবারপ্রধান যদি অন্য সরকারি ভাতা, সহায়তা, পেনশন বা এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের চাকরি পান, তবে পরিবার ভাতা পাওয়ার যোগ্য হবে না। একইভাবে, বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক লাইসেন্স, বিলাসবহুল সম্পদ বা ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র থাকলেও পরিবার ভাতা পাবেন না।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডকে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’ হিসেবে রূপান্তর করা হবে।