মানারাত
মানারাত কলেজ ক্যাম্পাসে ফেস্টের সমাপনী অনুষ্ঠান।   ছবি: সংগৃহীত

মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী ‘এমডিআইসি স্টেম ফেস্ট ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানারাত সায়েন্স ক্লাবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) শিক্ষায় আগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে ফেস্টের সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. এনামুল হক।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল স. ম. মাহবুব-উল-আলম, ওএসজি, এসজিপি, এনডিসি, পিএসসি (অব.) বলেন, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান কখনোই ইসলামী বিশ্বাসের পরিপন্থী নয়। বরং বিজ্ঞান স্রষ্টার নিদর্শন অনুধাবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তিনি চিকিৎসাবিদ্যা, গণিত ও বীজগণিতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুসলিম মনীষীদের ঐতিহাসিক অবদানের কথা তুলে ধরেন এবং শিক্ষার্থীদের সেই ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি মানুষের জীবনকে সহজ করার পাশাপাশি জীবনের উদ্দেশ্য ও নৈতিকতার বিষয়েও ভাবতে শেখায়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যেন মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হয়—এ প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নের দিকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান অধ্যক্ষ।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কলেজের উপাধ্যক্ষ মোহাম্মাদ আনোয়ারুল করীম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ তাহমীনা ইয়াসমিন, বালিকা ও বালক শাখার কো-অর্ডিনেটর তাহমিনা আখতার ও এম এ মহসিন কোরেশী, আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. মাকসূদুল আলম ও রোখসানা খানমসহ অন্যরা।

আয়োজকদের ভাষ্য, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় আগ্রহী করে তুলবে এবং ভবিষ্যৎ গবেষক ও উদ্ভাবক তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

ফেস্টের শেষ দিনে বিভিন্ন অলিম্পিয়াড, রোবোটিক্স প্রতিযোগিতা, প্রজেক্ট ডিসপ্লে ও অন্যান্য ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পরে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) উৎসবের প্রথম দিনে গণিত, সাধারণ বিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, বায়োলজি ও কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াডসহ বিভিন্ন একাডেমিক ও সৃজনশীল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি ছিল কম্পিউটার সায়েন্স অলিম্পিয়াড, রোবোটিক্স প্রতিযোগিতা, চেস, টেক টক সেশন ও ফান সেগমেন্ট। দুই দিনব্যাপী এসব আয়োজনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যায়।

এমকে/আরটিএনএন