ফেলানি হত্যা
ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ)এর কেন্দ্রীয় কর্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন।   ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে কিশোরী ফেলানি হত্যার ঘটনার ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও নিহতের পরিবার কাঙ্ক্ষিত বিচার পায়নি। ভারতীয় আদালতে এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার চাওয়া অর্থহীন। সরকারকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ)-এর প্রধান সংগঠক নাঈম আহমাদ।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) ফেলানি হত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

নাঈম আহমাদ বলেন, বিয়ের পিড়িতে বসার উদ্দেশ্যে পিতার সঙ্গে সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে ফেলানিকে নির্মমভাবে জীবন দিতে হয়েছে। বিএসএফ তাকে গুলি করে কাঁটাতারের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে তিলে তিলে হত্যা করেছে। অথচ পরবর্তীতে ফেলানি ও তার পরিবারকে গরু চোরাকারবারি হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, যা ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার এক ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত।

তিনি বলেন, ফেলানি হত্যার আড়াই বছর পর ২০১৩ সালের আগস্টে ভারতের জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস আদালতে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু পরের মাসেই বিএসএফের বিশেষ ওই আদালত আসামি বিএসএফ জওয়ান অমিয় ঘোষকে খালাস দেয়। ওই রায় প্রত্যাখ্যান করে ফেলানির বাবা ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে পুনর্বিচারের দাবি জানান। এর প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালে আবারও বিচার কার্যক্রম শুরু হলেও পরের বছর সেখানেও অমিয় ঘোষ খালাস পান।

তিনি আরও বলেন, ওই বছরই ভারতের মানবাধিকার সংগঠন ‘মাসুম’ ফেলানির বাবার পক্ষে এই হত্যা মামলার পুনর্বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। দীর্ঘ সময় পার হলেও ওই পিটিশনের কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। এসব ঘটনা থেকেই স্পষ্ট হয়, শুধু ভারতীয় আদালতের ওপর নির্ভর করে ফেলানি হত্যার বিচার চাওয়া অর্থহীন।

নাঈম আহমাদ বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে চাই। তাই ফেলানি হত্যার বিচার আদায়ে বাংলাদেশ সরকারকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন বাস্তবায়ন, ২০১৮ সালের বাংলাদেশ–ভারত সীমান্ত চুক্তির কার্যকর প্রয়োগ, শক্তিশালী কূটনৈতিক তৎপরতা, আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি এবং গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে বিচারের দাবি তুলে ধরতে না পারলে ফেলানি হত্যার সুবিচার পাওয়া সম্ভব নয়।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে সরকারকে আন্তর্জাতিক আদালত ও জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের দ্বারস্থ হতে হবে। ফেলানি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা না গেলে বিএসএফ সীমান্তে হত্যা বন্ধ করবে না।

আপ বাংলাদেশের মুখপাত্র শাহরীন সুলতানা ইরা বলেন, ফেলানি আমাদের জাতীয় বিবেকের ওপর এক স্থায়ী কাঁটা। দেড় দশক সময় পার হলেও ফেলানি হত্যার বিচার না হওয়া জাতি হিসেবে আমাদের জন্য হতাশাজনক।

 যুগ্ম প্রধান সংগঠক মো. আহছান উল্লাহ বলেন, ভারতসহ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক সম্মান, ন্যায্যতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে। কিন্তু ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী এখনো সীমান্তে নিয়মিত মানবাধিকার লঙ্ঘন করে যাচ্ছে। ফেলানি হত্যার বিচারের মধ্য দিয়েই এই অবস্থার অবসান ঘটতে পারে।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সদস্য জাহিদ আহসান, তামজীদুল ইসলাম, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি শাখার আহ্বায়ক শেখ সাদি, ঝালকাঠি জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হানজালা তাইফুন প্রমুখ।