জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অজ্ঞাত শহীদদের মধ্যে নতুন করে ৮ জন শহীদের পরিচয় শনাক্ত 
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অজ্ঞাত শহীদদের মধ্যে নতুন করে ৮ জন শহীদের পরিচয় শনাক্ত।   ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অজ্ঞাত শহীদদের মধ্যে নতুন করে ৮ জন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থানে এই মরদেহ উত্তোলন ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় সিআইডি।

শনাক্ত হওয়া শহীদরা হলেন- শহীদ ফয়সাল সরকার, শহীদ পারভেজ বেপারী, শহীদ রফিকুল ইসলাম , শহীদ মাহিম , শহীদ সোহেল রানা, শহীদ আসানুল্লাহ, কাবিল হোসেন ও রফিকুল ইসলাম ।

সিআইডি জানায়, রায়েরবাজার কবরস্থানে অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মরদেহ উত্তোলন ও ফরেনসিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। প্রতিটি মরদেহ উত্তোলনের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং ফরেনসিক চিকিৎসকরা ময়নাতদন্ত পরিচালনা করেন। সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ও কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়। সিআইডি আরও জানায়, এ পর্যন্ত অজ্ঞাতপরিচয় শহীদদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের মধ্য থেকে ৯টি পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাপ্ত ডিএনএ নমুনার মাধ্যমে এরইমধ্যে ৮ জন অজ্ঞাতপরিচয় শহীদের পরিচয় সফলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। 

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নিহত একাধিক নারী ও পুরুষ শহীদের কিছু অজ্ঞাতনামা মরদেহ রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে অজ্ঞাতনামা শহীদদের পরিচয় উৎঘাটনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে কার্যক্রমটির সার্বিক তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সিআইডি, বাংলাদেশ পুলিশকে দেওয়া হয়। মোহাম্মদপুর থানার সাধারণ ডায়েরি ও তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পর বিজ্ঞ আদালত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি দেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী মোট ১১৪টি মৃতদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ইউএনএইচআরসির সহায়তায় আন্তর্জাতিক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ লুইস ফন্ডেব্রিডারের নেতৃত্বে এবং মিনেসোটা প্রটোকল অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। রায়েরবাজার কবরস্থানে অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করে গত ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মরদেহ উত্তোলন ও ফরেনসিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

এ পর্যন্ত অজ্ঞাতনামা শহীদদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের মধ্য থেকে ৯টি পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাপ্ত ডিএনএ নমুনার মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৮জন অজ্ঞাতনামা শহীদের পরিচয় সফলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট মৃতদেহের পরিচয় শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অজ্ঞাত শহীদদের মরদেহ শনাক্তকরণের অংশ হিসেবে ১১৪ জনের মরদেহ উত্তোলন করার পরিকল্পনা করা হয়।