যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া ইরানের কন্টেইনারবাহী জাহাজ ‘তোস্কা’র  ছয়জন ইরানি নাবিক মুক্তি পেয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া ইরানের কন্টেইনারবাহী জাহাজ ‘তোস্কা’র ছয়জন ইরানি নাবিক মুক্তি পেয়েছেন।   ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া ইরানের কন্টেইনারবাহী জাহাজ ‘তোস্কা’র  ছয়জন ইরানি নাবিক মুক্তি পেয়েছেন। তবে এখনও ২২ জন নাবিক যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন বলে জানিয়েছে তেহরান।

ইরানের দাবি, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই এই ছয় নাবিকের মুক্তি সম্ভব হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, নাবিকদের নিরাপত্তা বিবেচনায় রেখে শুরু থেকেই সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত ছিল ইরান।

২৯ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ওমান উপসাগরে জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নেয়। জাহাজটি ইরানের বন্দর আব্বাসের দিকে যাচ্ছিল এবং এতে মোট ২৮ জন ইরানি নাবিক ছিলেন। এ ঘটনাকে ‘দস্যুতার শামিল’ বলে আখ্যা দেয় তেহরান।

ইরান জানায়, তাৎক্ষণিক সামরিক প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে তারা ‘আনুষ্ঠানিক ও কূটনৈতিক পথে’ নাবিকদের মুক্তির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই ছয়জন নাবিক ইতোমধ্যে দেশে ফিরেছেন।

এর আগে খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারস জানায়, নাবিক ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, জাহাজটি বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় তারা নিয়ন্ত্রণ নিতে বাধ্য হয়েছে।

ঘটনার পরপরই ইরান ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌযানের দিকে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এলাকায় উত্তেজনা বাড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।