ট্রাম্পের ‘যিশু সেজে’ পোস্ট ঘিরে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড়, আন্তর্জাতিক, ট্রাম্প, যিশুর মতো ছবি, যিশু সেজে ছবি, পোপ লিও, খ্রিস্টান, আরটিএনএন,
ডেনাল্ড ট্রাম্প।   ছবি: সংগৃহীত

নিজেকে যিশুর মতো ‘উদ্ধারকর্তা’ হিসেবে উপস্থাপন করা একটি এআই-তৈরি ছবি প্রকাশ এবং পোপ লিও চতুর্দশকে নিয়ে কড়া মন্তব্য—এই দুই ঘটনায় নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই কর্মকাণ্ড ঘিরে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা, যা ছড়িয়ে পড়েছে ধর্মীয় মহল থেকে রাজনৈতিক অঙ্গন পর্যন্ত।

রোববার (১২ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা ছবিতে ট্রাম্পকে সাদা পোশাকে এক ব্যক্তির মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদের ভঙ্গিতে দেখা যায়, যা অনেকের কাছে যিশুর আরোগ্য দানের দৃশ্যের মতো মনে হয়েছে। তবে সমালোচনার ঝড় উঠতেই সোমবার (১৩ এপ্রিল) ছবিটি মুছে ফেলেন তিনি।

এর আগে এক পোস্টে ট্রাম্প পোপ লিওকে ‘অপরাধ দমনে দুর্বল’ এবং ‘পররাষ্ট্রনীতিতে ব্যর্থ’ বলে কটাক্ষ করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, ছবিটি তিনি ‘ডাক্তারের প্রতীকী রূপ’ হিসেবে দেখেছেন এবং এটি রেড ক্রসের সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি আরও বলেন, ‘শুধু ভুয়া সংবাদমাধ্যমই বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে।’

অন্যদিকে, আলজেরিয়া সফরে যাওয়ার পথে পোপ লিও চতুর্দশ এ বিষয়ে সরাসরি বিতর্কে না জড়ালেও শান্তি, সংলাপ ও মানবিকতার পক্ষে তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষ কষ্ট পাচ্ছে, নিরীহ মানুষ মারা যাচ্ছে। তাই আমাদের শান্তির পথ খুঁজে বের করতে হবে।’

হোয়াইট হাউস ও ভ্যাটিকানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি, সামরিক অভিযান এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দূরত্ব বাড়ছিলই।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক নেতারা ট্রাম্পের বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, পোপ কোনো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী নন; তিনি বিশ্বজুড়ে মানুষের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক। একই সুর শোনা গেছে ইউরোপীয় নেতাদের কণ্ঠেও। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো—সমালোচনা এসেছে ট্রাম্পের নিজস্ব রক্ষণশীল ঘরানার ভেতর থেকেও। অনেকেই এআই-তৈরি ছবিটিকে ‘ধর্মনিন্দা’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, বিশ্বাসকে এভাবে ব্যক্তিগত প্রচারের হাতিয়ার বানানো উচিত নয়। এমনকি ডেমোক্র্যাট নেতা বার্নি স্যান্ডার্স ট্রাম্পের আচরণকে ‘আত্মকেন্দ্রিক ও অস্বাভাবিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

তবে বিতর্কের মধ্যেও একটি বাস্তবতা স্পষ্ট—২০২৪ সালের নির্বাচনে খ্রিস্টান ভোটারদের বড় একটি অংশ ট্রাম্পের পক্ষে ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই সমর্থনই তাকে এমন স্পর্শকাতর বিষয়েও আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের একটি ছবি ও কয়েকটি মন্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—রাজনীতি, ধর্ম এবং ব্যক্তিগত ইমেজ—এই তিনের সীমারেখা আসলে কোথায়?

আরবিএ/আরটিএনএন