হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই মুহূর্তে বিকল্প পথ খুঁজে নিল ইরাক। দেশটি সিরিয়ার ভূখণ্ড হয়ে স্থলপথে ইউরোপে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু করেছে যা আঞ্চলিক জ্বালানি বাণিজ্যের চিত্রে এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সংকেত।
বুধবার (২ এপ্রিল) ইরাকের রাষ্ট্রীয় তেল বিপণন সংস্থা সোমোর মহাপরিচালক আলী নাজার জানান, সিরিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর পর্যন্ত প্রতিদিন ৫০ হাজার ব্যারেল বসরা মিডিয়াম ক্রুড তেল রপ্তানির চুক্তি হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এই পরিমাণ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। তেলের চালান সিরিয়ার বানিয়াস বন্দর থেকে ইউরোপীয় বাজারে পৌঁছাবে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানিয়েছে, আল-তানফ সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে জ্বালানিবাহী কনভয় দেশটিতে প্রবেশ শুরু করেছে। সংস্থাটি এই ঘটনাকে আঞ্চলিক জ্বালানি করিডর হিসেবে সিরিয়ার পুনরুত্থানের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছে।
সিরিয়ান পেট্রোলিয়াম কোম্পানি জানিয়েছে, তেলের চালান সংরক্ষণের পর তা বানিয়াস বন্দরে স্থানান্তর করা হবে।
কোম্পানির যোগাযোগ পরিচালক সাফওয়ান শেখ আহমাদ জানান, প্রথম কনভয়ে রয়েছে ২৯৯টি ট্যাংকার। তিনি এই পদক্ষেপকে ‘অঞ্চলের অন্যতম প্রধান জ্বালানি করিডর হিসেবে সিরিয়ার ভূমিকা পুনরুদ্ধারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন।
দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত সিরিয়ার ট্রানজিট অবকাঠামো এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন জীবন পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে দামেস্কের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব আয়ের সুযোগ। সিরিয়ার কর্মকর্তারা বলছেন, এই অভিযান আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বৃহৎ পরিসরে জ্বালানি পরিবহন পরিচালনায় দেশটির সক্ষমতার প্রমাণ দেয়।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমো এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ মেট্রিক টন জ্বালানী তেল সিরিয়ার স্থলপথে সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ইরাকের এই বিকল্প রুটের সিদ্ধান্ত কেবল অর্থনৈতিক নয়, ভূরাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।
সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!