ইরান ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের দেশগুলোর বিরুদ্ধে সংঘাত বাড়লে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ইয়েমেন। এক বিবৃতিতে জানিয়েছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী।
শুক্রবার গভীর রাতে দেওয়া এই বিবৃতিতে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী বলেছে, ইরানকে সমর্থন ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত। —“আমাদের হাত ট্রিগারে”।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত এক মাস ধরে ইরানের বিরুদ্ধে এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন প্রতিরোধ গোষ্ঠীর ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। এই পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের পক্ষ থেকে এ কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হলো।
দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, ইরান ও প্রতিরোধ অক্ষের দেশগুলোর ওপর আগ্রাসন শুধু অন্যায় ও অযৌক্তিক নয়, বরং এটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির ক্ষতি করছে।
ইরান ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের দেশগুলোর বিরুদ্ধে আগ্রাসন বন্ধে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি মার্কিন ও ইসরায়েলি শত্রুর বিরুদ্ধে দ্রুত জবাব দেওয়া জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কোন পরিস্থিতিতে ইয়েমেন যুদ্ধে নামবে?
ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, তিনটি কারণ তাদের সরাসরি হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করবে:
১. বর্তমান আগ্রাসন অব্যাহত থাকা, ২. এই হামলায় অন্য কোনো দেশ বা পক্ষ সরাসরি জড়িয়ে পড়া, ৩. ইরান বা অন্য কোনো মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক অভিযান চালাতে লোহিত সাগর ব্যবহার করা।
সারি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা লোহিত সাগরকে যুদ্ধের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করতে কাউকে অনুমতি দেব না।”
‘ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব’
ইয়েমেনের সরকার বলছে, শুধু ইরান নয়, বরং পুরো প্রতিরোধ জোট এবং মুসলিম বিশ্বকে দুর্বল করার যে ষড়যন্ত্র চলছে, তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো তাদের ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব। তারা মনে করে, এই আগ্রাসনের পেছনে রয়েছে ইসরায়েলের তথাকথিত ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ পরিকল্পনা সফল করা। অর্থাৎ, বর্তমান দখলকৃত ভূখণ্ডের বাইরেও পশ্চিম এশিয়ার আরও বড় অংশ দখল করে নেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তেল আবিবের।
ইয়েমেনি বাহিনীর দাবি, তারা আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে একাত্ম হয়ে আগ্রাসীদের ‘বড় ধরনের পরাজয়’ ঘটাতে চায়।
আগ্রাসীদের প্রতি তিন দাবি
বিবৃতিতে ইয়েমেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছে:
১. যুদ্ধ বন্ধ: আগ্রাসন বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগগুলোর জবাব দিতে হবে। তাদের মতে, চলমান হামলা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।
২. গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর: গত অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল ওই চুক্তি গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা যুদ্ধ বন্ধের জন্যই করা হয়েছিল।
৩. ইয়েমেনের ওপর চাপ না বাড়ানো: আরব উপদ্বীপের দেশ ইয়েমেনের ওপর অবরোধ আরও কঠোর করার চেষ্টা করা যাবে না।
ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী বলেছে, মুসলিম উম্মাহর অংশ হিসেবে তারা যে কোনো মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের মোকাবিলা করবে।
ইয়াহিয়া সারিয়িয়ি তার বক্তব্যে ফিলিস্তিন, লেবানন, ইরান ও ইরাকসহ মুসলিম দেশগুলোর ওপর আগ্রাসন বন্ধ এবং ইয়েমেনের ওপর থেকে “অন্যায় অবরোধ” তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!