ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে নানা বিঘ্ন ঘটার মধ্যেই ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরক বোঝাই ইরানি নৌকার হামলায় দুটি জ্বালানি তেলের ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই খবরের পর বৃহস্পতিবার তেলের দাম আরও বেড়েছে।
গ্রিনিচ মান সময় রাত ১টা ১৮ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের ভবিষ্যৎ (ফিউচার) চুক্তিমূল্য ৫.৬৯ ডলার বা ৬.১৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৭.৬৭ ডলারে পৌঁছায়। অন্যদিকে ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ৫.১১ ডলার বা ৫.৮৬ শতাংশ বেড়ে ৯২.৩৬ ডলারে দাঁড়ায়।
ইরাকের 'জেনারেল কোম্পানি ফর পোর্টস'-এর মহাপরিচালক ফারহান আল-ফারতুসি বুধবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরাকের জলসীমায় অজ্ঞাত হামলাকারীদের আঘাতে ইরাকি জ্বালানি তেল বহনকারী দুটি বিদেশি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেগুলোতে আগুন ধরে যায়।
ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের একটি প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, ইরান থেকে আসা বিস্ফোরক বোঝাই নৌকা ওই দুটি ট্যাংকারে আঘাত হেনেছে। আইজি (IG)-এর বিশ্লেষক টনি সিকামোর বলেন, "তেলের লাগামহীন দাম নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে গত রাতে আইইএ (IEA) যে বিপুল পরিমাণ কৌশলগত তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিল, এটি মনে হচ্ছে তারই বিরুদ্ধে ইরানের একটি সরাসরি ও জোরালো জবাব।"
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে সরবরাহে যে ধাক্কা লেগেছে এবং এর জেরে তেলের দাম যেভাবে বেড়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা রেকর্ড ৪০ কোটি (৪০০ মিলিয়ন) ব্যারেল তেল ছাড়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশটি—১৭ কোটি ২০ লাখ (১৭২ মিলিয়ন) ব্যারেল—যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে সরবরাহ করছে।
মুমু এএনজেড- বাজার কৌশলবিদ টিনা টেং বলেন, "আইইএ-এর এই তেলের মজুত ছাড়ার সিদ্ধান্ত কেবল একটি সাময়িক সমাধান হতে পারে। কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের চালানে বিঘ্ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে উৎপাদন ব্যাপকভাবে বন্ধ থাকায় একটি দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ সংকট তৈরি হতে পারে।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ওয়াশিংটন "খুব ভালো অবস্থানে" রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র "প্রণালির দিকে খুব শক্ত নজর রাখতে যাচ্ছে।" তবে এই বিষয়ের সাথে পরিচিত সূত্রগুলো জানিয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরানের নেতৃত্ব এখনও অনেকাংশেই অটুট রয়েছে এবং সহসা তাদের পতনের কোনো ঝুঁকি নেই। টেং বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত কমার কোনো লক্ষণ না থাকায় তেলের দাম বৃদ্ধির এই চাপ অব্যাহত রয়েছে।"
সূত্র : রয়টার্স
আরটিএনএন/এআই
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!