বিশ্ব এখন এমন এক সংকটময় সময়ের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য পানির প্রাপ্যতা ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, মানবজাতি ‘গ্লোবাল ওয়াটার ব্যাংকরাপ্সি’ বা বৈশ্বিক পানি দেউলিয়াত্বের যুগে প্রবেশ করেছে। এই সংকট ইতোমধ্যেই কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অতিরিক্ত পানি ব্যবহার ও ভয়াবহ দূষণ এখনই নিয়ন্ত্রণে না আনলে বিশ্বের পানি ব্যবস্থাপনা কাঠামো যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। এর ফলে শুধু দৈনন্দিন জীবন নয়, বরং বৈশ্বিক শান্তি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাও গুরুতর হুমকির মুখে পড়বে।
জাতিসংঘের ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর ওয়াটার, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হেলথের অধ্যাপক কাভেহ মাদানির নেতৃত্বে তৈরি এই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের বহু গুরুত্বপূর্ণ পানি ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই কার্যত দেউলিয়া হয়ে গেছে। কখন পুরো ব্যবস্থাটি সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়বে, তা কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না। পরিস্থিতি অত্যন্ত জরুরি।
জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ এমন দেশে বসবাস করে, যেখানে পানির নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। পাশাপাশি প্রায় ২০০ কোটি মানুষ এমন অঞ্চলে বসবাস করছে, যেখানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বিপজ্জনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় ভূমিধস ও ভূমি ধসের আশঙ্কা বাড়ছে।
জলবায়ু পরিবর্তন এই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে। হিমবাহ গলে যাওয়ায় পানির প্রাকৃতিক মজুত কমে যাচ্ছে, আবার কোথাও দীর্ঘস্থায়ী খরা ও কোথাও আকস্মিক অতিবৃষ্টির মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়ছে। জাকার্তা, ম্যানিলা, লাগোস ও কাবুলসহ বহু বড় শহর মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তুরস্কের কোনিয়া সমভূমিতে ইতোমধ্যেই ৭০০টির বেশি সিঙ্কহোল সৃষ্টি হয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে।
২০১০ সালের পর থেকে পানি নিয়ে সংঘাত উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকে বিশ্বের অর্ধেকের বেশি বড় হ্রদের আয়তন সংকুচিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতের পানি নিরাপত্তাকে আরও দুর্বল করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, অবিলম্বে পানি সংরক্ষণ, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে বৈশ্বিক পানি সংকট ভয়াবহ ও অনিয়ন্ত্রিত রূপ নিতে পারে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!