নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জোহরান মামদানির শাসনকৌশল নিয়ে তার সমর্থক ও সমালোচক—উভয় পক্ষেরই প্রবল কৌতূহল ছিল। বিশেষ করে ৩৪ বছর বয়সী এই ‘ডেমোক্র্যাটিক স্যোশালিস্ট’ নেতা শপথ গ্রহণের সময় যে তেজদীপ্ত ভাষণ দিয়েছিলেন, তা ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তিনি বলেছিলেন, "উগ্রবাদী তকমা পাওয়ার ভয়ে আমি আমার নীতি বিসর্জন দেব না।" তবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম কয়েক সপ্তাহে মামদানিকে দেখা গেছে বেশ সতর্ক এবং মেপে পা ফেলতে।
মেয়র হিসেবে তার প্রাথমিক দিনগুলোতে তিনি উগ্রতা পরিহার করে কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন। নিজের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে পুরোপুরি না মিললেও ছোটখাটো অর্জনগুলোকে স্বাগত জানাচ্ছেন এবং যেসব জায়গায় আগে হয়তো প্রতিবাদমুখর হতেন, সেখানে এখন নিজেকে সংযত রাখছেন।
সম্প্রতি নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হচুল তার ‘স্টেট অফ দ্য স্টেট’ ভাষণে প্রি-কিন্ডারগার্টেন (প্রাক-প্রাথমিক) শিক্ষা কার্যক্রমের প্রসারে তহবিল গঠনের ঘোষণা দেন। এই পরিকল্পনাটি মামদানির নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে আংশিক মিলে যাওয়ায় তিনি দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে গভর্নরকে অভিনন্দন জানান। তবে গভর্নর যখন কর বৃদ্ধি ছাড়াই "রূপান্তরমূলক বিনিয়োগের" কথা বলেন, তখন মামদানি নিজ আসনে বসে থাকেন। কারণ তিনি ও তার সমর্থকরা দীর্ঘ দিন ধরেই ধনীদের ওপর কর বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ওভাল অফিসে সাক্ষাতের পর তার সঙ্গে মামদানির নিয়মিত টেক্সট বা ফোনে যোগাযোগ রাখার বিষয়টি অনেকের ভ্রু কুঁচকে দিয়েছে। তবে তিনি গভর্নর হচুলের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন, যিনি মামদানির এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহায়তা করছেন।
সামাজিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও মামদানি এখন কঠোর অর্থনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি। সিটি কম্পট্রোলার বা হিসাব নিয়ন্ত্রক শুক্রবার এক প্রতিবেদনে সতর্ক করেছেন যে, চলতি অর্থবছরে শহরটি ২ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতির মুখে পড়েছে, যা আগামী বছর ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ফলে তাকে হয়তো আপসের পথে হাঁটতে হতে পারে।
এখন পর্যন্ত মামদানির কার্যক্রম অন্য সাধারণ মেয়রদের মতোই মনে হচ্ছে। তিনি দিনে একাধিক ইভেন্টে অংশ নিচ্ছেন, সেতুর র্যাম্প সংস্কার, পাবলিক টয়লেট স্থাপন এবং আবাসন ও ব্যবসায়িক লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানোর মতো নীতিগত ঘোষণা দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে তিনি এবং তার স্ত্রী রামা দুওয়াজি কুইন্সের ভাড়া বাসা ছেড়ে আপার ইস্ট সাইডের অভিজাত সরকারি বাসভবন ‘গ্রেসি ম্যানশন’-এ উঠেছেন।
পুলিশের গুলি চালানোর ঘটনা এবং ইহুদিবিদ্বেষ বা অ্যান্টিসেমিটিজম মোকাবিলা নিয়ে শুরুর দিকেই তাকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। ডেমোক্রেটিক রাজনৈতিক কৌশলবিদ ট্রিপ ইয়াং বলেন, “নতুন মেয়রের প্রথম কয়েক সপ্তাহের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি খুব দ্রুত নিজেকে শুধরে নিতে পারেন। প্রচারণার সময়ের চেয়ে এখন তাকে অনেক বেশি সংযত মনে হচ্ছে, যা আসলে সিটি হলের দায়িত্ব পালনেরই অংশ।”
গভর্নরের সঙ্গে সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা :
সাবেক মেয়র ডি ব্লাজিও এবং সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমোর মধ্যে যে তিক্ত সম্পর্ক ছিল, মামদানি ও বর্তমান গভর্নর হচুল তা কাটিয়ে উঠতে আগ্রহী। হচুল নিজেও আসন্ন প্রাইমারি নির্বাচনের মুখোমুখি হচ্ছেন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিশু যত্ন বা চাইল্ড কেয়ারের ওপর জোর দিচ্ছেন, যা মামদানিরও এজেন্ডা। হচুলের চাইল্ড কেয়ার পরিকল্পনাটি মামদানির ‘ইউনিভার্সাল চাইল্ড কেয়ার’ (৬ সপ্তাহ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য) প্রস্তাবনার পথ সুগম করতে পারে।
তবে ধনীদের ওপর কর আরোপের বিষয়ে মামদানি পিছু হটবেন না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রাজ্য আইনসভার একদল ডেমোক্র্যাটিক স্যোশালিস্ট সদস্য ইতিমধ্যেই ধনীদের ওপর কর বসানোকে তাদের মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। মামদানি সাংবাদিকদের বলেছেন, “নিউইয়র্ক সিটির যে অতিরিক্ত নিয়মিত রাজস্ব প্রয়োজন, তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, তার সমর্থকরা ধনীদের ওপর কর বাড়ানোর এজেন্ডায় ভোট দিয়েছেন এবং তিনি এ বিষয়ে আলবেনিতে (রাজ্যের রাজধানী) আলোচনা চালিয়ে যাবেন।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আলবেনির এক আইনপ্রণেতা সিএনএনকে জানান, যদি চাইল্ড কেয়ারের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল অন্য কোনো উৎস থেকে পাওয়া যায়, তবে মামদানি হয়তো কর বৃদ্ধি নিয়ে বড় কোনো আদর্শিক লড়াইয়ে জড়াবেন না।
সূত্র : সিএনএন
আরটিএনএন/এআই
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!