রুশ হামলায় , রয়টার্স
ইউক্রেনের ওডেসা অঞ্চলে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, হতাহত ২২   ছবি: রয়টার্স

ইউক্রেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওডেসা অঞ্চলে বন্দর অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৭ জন নিহত এবং কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা। 

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) গভীর রাতে এই হামলা চালানো হয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স। 

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বার্তা সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদেনে বলা হয়, ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ওলেক্সিয়ে কুলেবা টেলিগ্রামে দেয়া এক বার্তায় জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় রুশ বাহিনী বন্দর এলাকার একটি স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হামলার ফলে বন্দরসংলগ্ন পার্কিং লটে থাকা একাধিক ট্রাকে আগুন ধরে যায়।

কুলেবা বলেন, আহত ১৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা চলছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা সাতজন।

তিনি আরও জানান, হামলার সময় বিমান হামলার সতর্কতা জারি থাকায় জরুরি ও পরিচালনামূলক পরিষেবার কাজ ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় বর্তমানে ইউক্রেনের ১২টি অঞ্চল থেকে উদ্ধারকারী দল ওডেসা অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওডেসা অঞ্চল ধারাবাহিক বিমান হামলার মুখে পড়েছে বলে জানায় স্থানীয় কর্মকর্তারা।

ওডেসা আঞ্চলিক গভর্নর ওলেহ কিপারও একই তথ্য দেন।

এ ঘটনার সঙ্গে পরিচিত এক সূত্র জানায়, হামলাটি পিভদিনি বন্দরে চালানো হয়, যা ওডেসা এলাকার তিনটি প্রধান বন্দরের অন্যতম। ওডেসা কৃষ্ণসাগরীয় শস্য ও অন্যান্য রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই অঞ্চলটি রুশ হামলার অন্যতম লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ওডেসায় হামলার মাত্রা আরও বেড়েছে। ক্রমাগত হামলার কারণে দীর্ঘ সময়ব্যাপী বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার মতো সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। বৃহস্পতিবারের এক হামলায় ওডেসা শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি সেতু মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা শহর থেকে দানিউব নদীর বন্দর রিনি পর্যন্ত যোগাযোগ এবং মোলদোভা ও রোমানিয়ায় সীমান্ত অতিক্রম প্রক্রিয়া ব্যাহত করছে।

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিডেনকো টেলিগ্রামে জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের চলাচল সহজ করতে সরকার সড়ক ও রেলপথে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে কুলেবা জানান, সীমান্তে ক্ষতি হওয়ায় মোলদোভা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকল্প রুট চালুরও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, যাতে মালবাহী ট্রাক ও সাধারণ যাত্রীরা সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেন।

এ ঘটনায় রাশিয়ান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। চলমান সংঘাতের কারণে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন বলে জানানো হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স