ইউটিএল
ইউটিএল লোগো   ছবি: সংগৃহীত

সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ছেন অনেকে। যার ফলে বিভিন্ন জেলার শতশত প্রার্থী নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে ইউটিএলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. যুবাঈর মুহাম্মদ এহসান এ প্রতিক্রিয়া জানান।

বিবৃতিতে ইউটিএল নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, বাদ পড়া প্রার্থীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধার ভিত্তিতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। এরপর এনএসআই, এসবি ও ডিএসবির ভেরিফিকেশনের নামে তাদের নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়ে থাকলে এর সুনির্দিষ্ট কারণ ও আইনগত ভিত্তি প্রকাশের দাবি জানান তারা।

তাদের ভাষ্য, ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া রাজনৈতিক মতাদর্শিক বৈষম্য, হয়রানি বা বাছাইয়ের হাতিয়ার হওয়া উচিত নয়।

ইউটিএল নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে কারও রাজনৈতিক মতামত, ব্যক্তিগত বিশ্বাস কিংবা সরকারের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে চাকরিবঞ্চিত করার অভিযোগ উদ্বেগজনক। নির্দিষ্ট অপরাধ বা আইনগত অযোগ্যতার প্রমাণ ছাড়া রাজনৈতিক পরিচয়, অনুমান কিংবা মতপার্থক্যের ভিত্তিতে কাউকে সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয় বলে তারা মনে করেন।

বিবৃতিতে সংগঠনটি দাবি করে, গত ১৭ বছর গোপন প্রতিবেদনের নামে রাজনৈতিক মতাদর্শ বিবেচনায় নাগরিকদের চাকরি ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এ ধরনের প্রক্রিয়া বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ইউটিএল নেতৃবৃন্দ বলেন, কোনো সরকারি সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর নিয়োগ বাতিল করা হলে ওই প্রতিবেদনের আইনগত ভিত্তি ও যৌক্তিকতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে যথাযথ সুযোগ দিতে হবে।

এছাড়া সরকারি নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ইউটিএল। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। সরকারি চাকরি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্যের পুরস্কার নয় বলেও মন্তব্য করেন তারা।

বিবৃতিতে বাদ পড়া সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন পুনঃপর্যালোচনা, অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ প্রকাশ এবং প্রয়োজন হলে পুনঃতদন্তের মাধ্যমে নিয়োগ সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়।

ইউটিএল নেতৃবৃন্দের দাবি, ভেরিফিকেশনের নামে বৈষম্য ও মতাদর্শিক বাছাইয়ের অভিযোগ জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী একটি ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।